শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৬

বিশ্বকাপে সবাইকে ছা​ড়িয়ে মুস্তাফিজ

আজও দেখা মিলল মুস্তাফিজের জাদু। ছবিমুস্তাফিজুর রহমান মাঠে নামছেন কবে? চোটের কত দূর অগ্রগতি? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পিছু নিয়েছিল প্রশ্নগুলো। বাংলাদেশ দলের কোচ-অধিনায়ককে নিয়মিতই জানাতে হয়েছে মুস্তাফিজের হালনাগাদ খবর। এই বাঁহাতি পেসারকে নিয়ে সবার বিরাট আগ্রহের কারণটা নিশ্চয় বোঝা যাচ্ছে। তিনি যে এখন বাংলাদেশ দলের আশার প্রদীপ। বাংলাদেশের এই বোলিং-বিস্ময় আক্রমণে এলেই কিছু একটা হবে—এমন একটা ভাবনা পোক্ত হয়ে গেছে এখন।
আজ যেমন এই টুর্নামেন্টে বাকি সব বোলারকে ছাড়িয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড করলেন। ২২ রানে নিলেন ৫ উইকেট। বিশ্বকাপ প্রায় শেষের দিকে। এর আগে ৫ উইকেট নিয়েছেনই মাত্র একজন। এখান থেকেও বুঝতে পারবেন, ৪ ওভারের বোলিং কোটা দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট নেওয়া কত কঠিন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছয় আসর মিলিয়েই ইনিংসে ৫ উইকেট এর আগে ছিল মাত্র ছয়বার।
বিশ্বকাপে মাত্র তিন ম্যাচ খেলেই নিয়েছেন ৯ উইকেট, মুস্তাফিজকে কতটা মিস করেছে বাংলাদেশ! চোটের কারণে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দলের বাইরে। কবে, কখন ফিরবেন মুস্তাফিজ, কিছুদিন অপেক্ষায় গেল সবার। অবশেষে ফিরলেন বেঙ্গালুরুতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ৩০ রানে নিলেন ২ উইকেট। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথকে করলেন বোল্ড। তাঁর কাটারে বোকা বনে যাওয়া মিচেল মার্শ আউট হলেন সাকিব আল হাসানের ক্যাচ দিয়ে।
একই মাঠে ভারতের বিপক্ষেও সপ্রতিভ মুস্তাফিজকেই দেখা গেল। নিলেন ৩৪ রানে ২ উইকেট। উইকেট দুটির মধ্যে একটি এই সময়ে ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা। আরেকটি রবীন্দ্র জাদেজার। নামটা মুস্তাফিজ বলেই এমন পারফরম্যান্সে পূর্ণ তৃপ্ত হওয়া কঠিন। টেস্ট, ওয়ানডেতে বিস্ময়ের পর বিস্ময় উপহার দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি জয় করাটা বাকি ছিল। এই সংস্করণেও যে তিনি অনুজ্জ্বল, তা নয়। কিন্তু ওই যে বলা হলো, ১-২ উইকেট আসলে মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে যায় না!
অন্য ম্যাচগুলোয় ‘আংশিক’ দেখা গেলেও ইডেনে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দেখা গেল মুস্তাফিজের ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য’ পারফরম্যান্স। কাটার, ইয়র্কার, স্লোয়ার আর নিখুঁত লেন্থে বোলিংয়ে ১, ২ করে নিলেন কিউইদের পাঁচ উইকেট। চূড়ায় উঠতে না পারলেও ৪ ওভারে ২২ রান ৫ উইকেট নিয়ে রেকর্ড বইয়ের বেশ কিছু অধ্যায়ে এল পরিবর্তন।
টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে এখনো সবার ওপরেই আছেন ইলিয়াস সানি। টি-টোয়েন্টি সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার মুস্তাফিজ। কদিন আগে হল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ বছর ১৯১ দিনে ৫ উইকেট নিয়ে শীর্ষে স্কটল্যান্ডের মার্ক ওয়াট। মুস্তাফিজ নিয়েছেন ২০ বছর ২০২ দিনে। তবে একটি জায়গায় ওপরেই আছেন মুস্তাফিজ। তবে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৭ রানে ৫ উইকেট নেওয়া জেমস ফকনারকে ছাপিয়ে ইনিংসে সেরা বোলিং এখন মুস্তাফিজের।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সামান্য প্রাপ্তির মধ্যে নতুন সংযোজন কিউইদের বিপক্ষে মুস্তাফিজের এই বোলিং-জাদু।
Share:

ব্যাটিং ধস দিয়েই শেষ

.বাংলাদেশ ৭৮ রান করতে পারবে তো? লক্ষ্য ১৪৬ রান। কিন্তু ৭৮ রানের ভাবনা কেন? টি-টোয়েন্টিতে এটাই যে এত দিন ছিল বাংলাদেশের সর্বনিম্ন। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিল্টনে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিল বাংলাদেশ। আজ ইডেনে ৭০ রানে অলআউট হয়ে কিউদের বিপক্ষে পুরোনো ‘রেকর্ড’টি ভেঙে দিলেন মাশরাফিরা! ৭৫ রানে হেরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষটা হলো আরও ধূসর।
আটে নামা শুভাগত হোমের অপরাজিত ১৬ রান বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ। ইনিংসে একটি মাত্র ছক্কা হলো, মারলেন মুস্তাফিজুর রহমান! পুরো ইনিংসে চারও মোটে চারটি! এতেই নিশ্চয় সাকিব-তামিম-মুশফিকদের ব্যাটিং দুর্দশা পরিষ্কার। ৪ রানে শুরু, আসা-যাওয়ার মিছিলটা শেষ হলো ১৫.৪ ওভারে। একদিকে পেস আরেকদিকে স্পিন আক্রমণে দিশেহারা বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেলা নিউজিল্যান্ডকে ১৪৫ রানে আটকে রেখেও মাশরাফিরা পারলেন না সুযোগটা কাজে লাগাতে।
শুভাগত হোম করেছেন ১৬, সাব্বির ১২, মিঠুন ১১। বাকি আট ব্যাটসম্যানের কেউ দুই অঙ্কই ছুঁতে পারলেন না। এই আটজন মিলে স্কোরবোর্ডে দিয়েছেন ২৫ রান। বাংলাদেশের ৬ ব্যাটসম্যানের চেয়ে বেশি রান এল এক্সট্রা থেকে! পুরো ম্যাচে একটাই প্রাপ্তি, মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং।
মুস্তাফিজের ৫ উইকেট এবারের বিশ্বকাপেই সেরা বোলিং। দুই কিউই ওপেনারকেই ফিরিয়েছেন। আউট হওয়া শেষ চার ব্যাটসম্যানের তিনজনও তাঁর শিকার। এর মধ্যে শেষের দুজনকে ফিরিয়েছেন শেষ ওভারে টানা দুই বলে। ছিলেন হ্যাটট্রিকের সামনে। এ নিয়ে কতবার যে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়ালেন। পাঁচবার জোড়া উইকেট শিকার করেও হ্যাটট্রিকটা হচ্ছে না। আজও হলো না। শেষ বলে উল্টো ছক্কা হজম করলেন।
তবে ওই ছক্কা ছাড়া বাকিটা সময় ছিল তাঁরই দাপট। তাঁর ৪ ওভারে যে এর আগে একটাই বাউন্ডারি নিতে পেরেছিল টুর্নামেন্টের সেরা দল নিউজিল্যান্ড। নিজের ২৪ বলের মধ্যে ওই দুটিতেই ১০ রান দিয়েছেন। বাকি ২২ বলে ১২ রান। ডট দিয়েছেন ১১টি। পাঁচ উইকেটের চারটিই বোল্ড করে!
দুই থেকে চার—নিউজিল্যান্ডের এই তিন ব্যাটসম্যানের ইনিংসেই ভর করে তাদের পুঁজি। উইলিয়ামসন ৪২, মানরো ৩৫, টেলর ২৮। এর মধ্যে মানরো ৮ রানেই ফিরতে পারতেন। সাকিবের বলে পরিষ্কার এলবিডব্লু হয়েও বেঁচে গেছেন অবিশ্বাস্যভাবে আম্পায়ার না-বোধক মাথা নাড়ানোয়। টেলরও ৯ রানে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন মাশরাফির বলে আল আমিন সহজ ক্যাচটি ফেলায়।
দারুণ এই বোলিং-ফিল্ডিং আফসোসে পরিণত হলো ব্যাটিংয়ের কারণে। শেষটা মনে রাখার মতো হলো না।
Share:

অধিনায়ক হিসেবে আর যোগ্য নন আফ্রিদি!

অধিনায়কত্বে নিজেকে যোগ্য মনে করেন না আফ্রিদি। ছবি: এএফপি।গতকালই কি পাকিস্তানের হয়ে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেললেন শহীদ আফ্রিদি? এখনো নিশ্চিত না হওয়া গেলেও, একটা ব্যাপার কিন্তু প্রায় নিশ্চিত- পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে আর দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। আফ্রিদি নিজেই বলেছেন, অধিনায়ক হিসেবে তিনি নিজেকে মোটেও যোগ্য মনে করেন না।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১ রানে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর সংবাদ সম্মেলনে অনেকেই অপেক্ষায় ছিলেন আফ্রিদির ‘শেষ’ ঘোষণার। তবে নিজের বিদায়ের ঘোষণাটা আপাতত দেশে গিয়েই দিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘বিদায় নেব কখন, কবে, সেটা দেশে গিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাতে চাই। দেশের জন্য যেটা ভালো হয়, সে অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেব।’

নিজের অবসরের ঘোষণাটা তিনি নিজের দেশে গিয়ে নেবেন, সেটাতে কারও কিছু বলার নেই। তবে অধিনায়ক হিসেবে যে আর থাকছেন না সেই আভাস পাওয়া গেল তাঁর কথাতেই। কেন নিজেকে অধিনায়ক হিসেবে যোগ্য মনে করেন না, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আফ্রিদি, ‘অধিনায়ক হলে অনেক কিছুই সামলাতে হয়। অধিনায়কত্বের দায়িত্বটি তো অবশ্যই চাপের। এর ওপর গণমাধ্যমের চাপ তো আছেই। আমার মনে হয় না আমি অধিনায়ক হিসেবে যোগ্য। তবে বিশ্বাস করুন, খেলোয়াড় হিসেবে খেলে যাওয়ার সব যোগ্যতাই আমার আছে।’ সূত্র: এএফপি।
Share:

পাঁচ সমস্যা সারবে লেবু ও গোল মরিচে

পাঁচ সমস্যা সারবে লেবু ও গোল মরিচে শীর্ষ নিউজ,ঢাকা: অসুস্থ হলে শরীরে তেমন শক্তি থাকে না। তখন এমন ধরনের জিনিস আমাদের প্রয়োজন যার মধ্যে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান রয়েছে। যখন ঠান্ডা দূর করার কথা আসে, তখন লেবুর রস খাওয়া যায়।

কেননা এর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, সাইট্রিক, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি। এগুলো ভাইরাসের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। আবার লবণ, গোল মরিচ ব্যবহার করে কিন্তু অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদিয়েস্ট ইউনিভার্স জানিয়েছে লবণ, গোলমরিচ ও লেবুর রস ব্যবহার করে পাঁচ ধরনের সমস্যা সারানোর ঘরোয়া উপায়ের কথা। তবে যেকোনো জিনিস খাওয়ার আগে বা ব্যবহারের আগে আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

১. গলা ব্যথা বা কফের সমস্যা হলে একটি লেবু কেটে এর অর্ধেক অংশে সামান্য পরিমাণ লবণ আর গোল মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে এর রস খেতে পারেন। এটি ঠান্ডা সারতে কাজে দেবে।

২. জলপাইয়ের তেল ও লেবুর রস মিশিয়ে খেলে গলব্লাডারের পাথর দূর করতে সাহায্য হয়।

৩. বমির সমস্যা থাকলে এক গ্লাস পানির মধ্যে কয়েক টুকরো লেবুর রস দিয়ে এর মধ্যে সামান্য গোল মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন।

৪. দাঁতের ব্যথা কমাতে জলপাইয়ের তেলের মধ্যে সামান্য গোল মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে পারেন।

৫. নাকের রক্ত পড়াও দূর করা যেতে পারে লেবুর রস দিয়ে। একটি তুলার বলের মধ্যে লেবুর রস নিন। একে নাসারন্ধ্রের মধ্যে লাগান। দেখবেন রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে গেছে।
Share:

বাংলাদেশে প্রতি সাত জনে একজন কিডনি রোগী

বাংলাদেশে প্রতি সাত জনে একজন কিডনি রোগী


একজন রোগী জানিয়েছেন চিকিৎসা নিতে প্রতি মাসে তাঁর ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়।

বাংলাদেশের দু'টি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের জরিপ অনুযায়ী দেশটির প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত, যদিও চিকিৎসকরা বলছেন এর চিকিৎসাও এখন বাংলাদেশে সহজলভ্য।

আক্রান্তরা বলছেন চিকিৎসা থাকলেও সেটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ট্যাক্স কমানো ও দেশে উৎপাদনের ব্যবস্থাসহ সরকারিভাবে কিছু পদক্ষেপ নিলে কিডনি রোগের চিকিৎসার ব্যয় অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি বিভাগের ডায়ালাইসিস সেন্টারে একজন রোগী জানান ছয় মাস ধরে ডায়ালাইসিস নিচ্ছেছন তিনি।

এই রোগীর সঙ্গে থাকা তাঁর সন্তান জানান, চিকিৎসার জন্যে প্রতি মাসে ৩০/৪০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে তাদের।

কেউ কেউ আবার খরচ কমাতে রোগীকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করান। শুধু ডায়ালাইসিসি করানোর জন্যে নির্ধারিত দিনে হাসপাতালে আনেন রোগীকে।

তেমনই একজন রাহেলা বেগম। তিনিও জানান ডায়ালাইসিস, ঔষধ, আনা নেয়ার খরচ-সব মিলিয়ে মাসে তাঁর ব্যয় ৩০-৪০ হাজার টাকা।

কিন্তু বাংলাদেশে কিডনি রোগের চিকিৎসা এতো ব্যয়বহুল কেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম সেলিম বলেন, "একটা ডায়ালাইসিসি মেশিনের দাম দশ লাখ টাকা। এছাড়া প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই বিদেশ থেকে আনা"।

সরকার ট্যাক্স কমিয়ে দিলে ডায়ালাইসিসের খরচ অনেক কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কিন্তু কিডনির সব ধরনের রোগের চিকিৎসা সেবা কি পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে? কিডনি সংযোজনের ক্ষেত্রে কতটা সফল হচ্ছে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা?

জবাবে অধ্যাপক সেলিম বলেন কিডনি সংযোজন হয় বাংলাদেশে বারটি সেন্টারে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এ পর্যন্ত ৪৭৮ জনের কিডনি সংযোজন করা হয়েছে।

তবে রোগীদের জন্যে সহায়তার ব্যবস্থাও করেছে কিডনি ফাউন্ডেশন ও বারডেমের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান।

বারডেম হাসপাতালের পরিচালক শহীদুল হক মল্লিক বলছেন প্রয়োজন হলে রোগীদের সহায়তার ব্যবস্থা হাসপাতাল থেকেই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গড়ে ১৮ হাজার জনের ডায়ালাইসিস হয় বারডেমে।

কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতি বছর শুধুমাত্র তাদের হাসপাতালেই গড়ে ৫০ হাজার রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

কিন্তু বাংলাদেশে এতো মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ কি?

অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল আর কিডনি ফাউন্ডেশনের এক জরিপ অনুযায়ী দেশে প্রতি সাত জনে একজন কিডনি রোগী।

ডায়াবেটিস রোগীর ৩০/৪০ শতাংশ আর উচ্চ রক্তচাপে যারা ভুগছেন তাদের ১৮/২০ শতাংশ ক্রনিক কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

তিনি বলেন কিডনি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্যে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন সবাই সচেতন হলে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

সূত্র: বিবিসি
Share:

জিকা ভাইরাস: যৌনসঙ্গমে সংক্রমণের সংখ্যা 'পূর্ববর্তী ধারণার চেয়ে বেশি'

জিকা ভাইরাস: যৌনসঙ্গমে সংক্রমণের সংখ্যা 'পূর্ববর্তী ধারণার চেয়ে বেশি'


 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের হার আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল বাস্তবে তার চেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার জরুরি এক বৈঠক শেষে সংস্থাটি জানায়, জিকা ভাইরাসের সঙ্গে বিভিন্ন জন্মকালীন ক্রটির সম্পর্কের বিষয়ে আরো প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সংক্রমণ রোধে সন্তানসম্ভবা নারীদের ল্যাটিন আমেরিকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

জিকা ভাইরাস মূলত: মশার মাধ্যমে ছড়ালেও এর আগে বেশ কয়েকটি দেশে যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জিকা ভাইরাস সম্পর্কে এক জরুরি বৈঠক শেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান বলেন, বেশ কয়েকটি দেশ থেকে পাওয়া নতুন তথ্যে তারা যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর আরো প্রমাণ পেয়েছেন।

"ভৌগলিকভাবে এই রোগটি আরো ব্যাপকহারে বাড়ছে, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠিও এখন আরো বিস্তৃত। একইসঙ্গে এটি সংক্রমণের প্রক্রিয়ায় মশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যৌনসঙ্গম।"

ড. চ্যান আরো বলেন, ব্রাজিলে জিকা ভাইরাসের সঙ্গে শিশুদের অপরিপক্ব মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মানোর যে সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে- সেটি এই ভাইরাসের কয়েকটি প্রভাবের একটি।

এই ভাইরাসের আরেকটি প্রভাব হচ্ছে গুলেন বারি সিন্ড্রোম বা জিবিএস। জিবিএসের ফলে একজন মানুষ সাময়িকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে, এমনকি মারাও যেতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখনো পর্যন্ত নয়টি দেশে জিবিএসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

সংস্থাটি জিকা ভাইরাসের ঝুঁকির কারণে শুধুমাত্র সন্তানসম্ভবা নারীদের ল্যাটিন আমেরিকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিলেও ড. চ্যান বলেন, জিকা ভাইরাসের কারণে এখন শুধুমাত্র সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীদের মধ্যেই সমস্যা দেখা যাচ্ছে না, এটি শিশু, কিশোর এবং পূর্ণবয়স্ক মানুষদেরও সমস্যার তৈরি করছে।

এমন এক সময়ে এই পরামর্শ আসলো যখন আর মাত্র পাঁচ মাস পর ব্রাজিলে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

গতমাসেই জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বিশ্বব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সূত্র: বিবিসি
Share:

মানুষের জন্য তৈরি এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে গবাদিপশুকে

মানুষের জন্য তৈরি এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে গবাদিপশুকে


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে বিশ্বে যে পরিমাণ এন্টিবায়োটিক তৈরি হয় তার অর্ধেকই ব্যবহৃত হয় পশু উৎপাদনে।

আর মানুষের জন্য তা বয়ে আনছে ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

আপনি ফাস্ট ফুড হিসেবে যে বার্গার খাচ্ছেন তার মাংস, জিভে জল আনা রেস্টুরেন্টের জুসি স্টেক অথবা ঘরে বসে রসিয়ে রসিয়ে যে গরুর মাংস খাচ্ছেন তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসে এভাবে উৎপাদিত প্রাণী থেকে।

স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভেবে যে দুধ খাচ্ছেন বা মাছ খাচ্ছেন তার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলছেন, বাংলাদেশে গবাদি পশু উৎপাদনে এন্টিবায়োটিক এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

তিনি বলছেন, “মানুষের জন্য তৈরি এন্টিবায়োটিকস খাওয়ানো হচ্ছে গবাদিপশুকে। যেসব কোম্পানি পশু খাদ্য তৈরি করে তারা তাতে মানুষের জন্য তৈরি এ্যন্টিবায়োটিকস মিশিয়ে দিচ্ছে। কারণ সেটি বেশি ভাল কাজ করে”

গরু, মুরগী, মাছের খাবার সবগুলোতেই এরকম ব্যবহার রয়েছে।

আবার প্রাণীদের জন্য যে এন্টিবায়োটিক তাও তাদের খাওয়ানো হচ্ছে।

পশু খাবার উৎপাদনকারীরা বলছে এতে গবাদি পশু সুস্থ থাকবে।

আর খামারিরা বিষয়টি না বুঝেই সেই খাবার কিনে খাওয়াচ্ছে।

আসলে এখানে ভুলটা হলো অসুখ হওয়ার আগে খাওয়ালে এন্টিবায়োটিক কোন কাজ করে না।

সেটি খাওয়াতে হয় সংক্রমণ হলে তার পরই।

অধ্যাপক ফারুক বলছেন, এর প্রধান ঝুঁকিটা হলো, কোন সংক্রমণ ছাড়া এত বেশি এন্টিবায়োটিক খাওয়ালে পশুর শরীরে যে জীবাণু তা ধীরে ধীরে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তৈরি করে ফেলে।

তিনি বলছেন মানুষ যখন এভাবে উৎপাদিত গরু, মুরগী বা মাছ খায় তখন খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে এসব এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু প্রবেশ করে।

“এর পর মানুষ যখন তার নিজের অসুখ হলে সেসব এন্টিবায়োটিক খায় তখন সেই ঔষধে আর কাজ হয়না। এতে করে খুব সাধারণ অসুখেও মানুষ মারা যাবে”

তিনি এটিকে নীরব একটি মহামারি বলে উল্লেখ করলেন।

গবাদিপশুর শরীরে যখন জীবাণু এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে তখন ঐ পশুর বিষ্ঠা, মলমুত্র পরিবেশে মিশে যাচ্ছে।

তাতে প্রকৃতিতেও মিশে যাচ্ছে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু।

আজ ভোক্তা অধিকার দিবসে খাবার মেনু থেকে এমন খাবারকে বিতাড়িত করার প্রচার চালানো হবে বিশ্বজুড়ে।

মানবদেহের এন্টিবায়োটিক পশুকে না খাওয়ার ব্যাপারে প্রচার হবে।
Share:

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

Recent Posts

Unordered List

Definition List